ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতির সুযোগে গত মার্চে নরওয়ের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেকর্ড ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি নরওয়ের পরিসংখ্যান সংস্থা ‘স্ট্যাটিস্টিকস নরওয়ে’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ইউরো নিউজ।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মার্চে নরওয়ে প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে। ফলে দেশটির রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৬ কোটি ডলার (৫ হাজার ৭৪০ কোটি ক্রোনার)। গত বছরের মার্চের তুলনায় এটি ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময় ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের গড় দাম ছিল ১ হাজার ১৪ ক্রোনার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ মাসিক গড় মূল্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে নরওয়ের নর্থ সি তেলের চাহিদা ও দাম উভয়ই ব্যাপক হারে বেড়েছে। রাশিয়ার বাইরে ইউরোপের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশ হিসেবে নরওয়ে বর্তমানে বিশ্ববাজারের এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুবিধা ভোগ করছে।
উল্লেখ্য, নরওয়ে তেল ও গ্যাস বিক্রির এ বিশাল আয় সরাসরি খরচ না করে নিজেদের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে জমা রাখে। বর্তমানে ২ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ১৯ হাজার ডলারের এ তহবিল বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ তহবিল। ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে গেলে জনকল্যাণমূলক ব্যয় সচল রাখতেই এ বিশাল অর্থ সঞ্চয় করছে দেশটি। বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত নরওয়ের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করলেও এটি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতাকেই স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছে।
এ জাতীয় আরো খবর..